Home » জাতীয় » ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে মানবন্ধন

ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে মানবন্ধন

রাবি প্রতিনিধি:
অবিলম্বে ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে মানবন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা বারোটায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ধান ছিটিয়ে তারা এই প্রতিবাদী মানববন্ধন পালন করেন।
‘কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে, মিল মালিকের কাছ থেকে নয়’, ‘দোকানে চালের দাম বেশি, কৃষকের ধানের দাম কম কেন?’, ‘শিল্পপতি যদি পণ্যের দাম ঠিক করতে পারে,কৃষক কেন ফসলের দাম ঠিক করতে পারবে না?’, ‘আমরা চাষা, ফসলের ন্যায্য মূল্য চাই’, ‘ধানের দাম চাই, সঠিক দাম চাই, ন্যায্যমূল্য চাই’, ‘কৃষক পায় না ধানের দাম, এটাই কি উন্ন্য়ন?’ ইত্যাদি স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেয়।
্ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সুমন মোড়ল বলেন, আমরা এখানে একটাই দাবি নিয়ে এসেছি তাহলো কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য চাই। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণে কোন পদক্ষেপ দেখা যায় না। বরং সরকার কৃষকদের কাছ থেকে না কিনে মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান কিনে। ফলে কৃষককে ধান উৎপাদনের পর ঋণের টাকা শোধ করার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়ে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হয়। কৃষক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ। দেশের উন্নয়ন করতে হলে আগে কৃষকদের অবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।
আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকি বলেন, আমাদের সকল উন্নয়নের পেছনে রয়েছে কৃষক সমাজ। যতই উন্নয়ন করি না কেন কৃষক যদি তার ন্যায্যমূল্য পেয়ে বেঁচে থাকতে না পারে তবে সকল উন্নয়ন মøান হয়ে যাবে।কিছুদিন আগে আমরা এক কৃষককে দাম না পেয়ে নিজের ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখেছি। এর আগে কৃষকরা রাস্তায় আলু-টমেটো ফেলে প্রতিবাদ করেছিল। এর কারণ কি? কেন কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না? এ ব্যাপারে সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করতে হবে। যদি এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তবে আমরা ছাত্রসমাজ কৃসকদের সাথে একাত্ম হয়ে এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য বর্তমানে কৃষি পণ্যের দামে ব্যাপক নৈরাজ্য চলছে। ১ কেজি ধানের দাম ১২ টাকা অথচ ১ কেজি চাউলের দাম ৫০ টাকা। একমণ ধান বিক্রি করেও ১ কেজি গরুর মাংস কেনার সাধ্য নেই কৃষকের। ফলে ধানের ফলন ভালো হলেও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেছে কৃষক ।