Home » প্রধান খবর » ফেনীতে ছেলেধরা আতঙ্কে স্কুলে উপস্থিতি কমেছে

ফেনীতে ছেলেধরা আতঙ্কে স্কুলে উপস্থিতি কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউটার্ন.কম : ফেনীতে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্কে স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে শিশুরা। ফলে স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনক কমছে। এই আতঙ্ক দূর করতে সমন্বিত পদক্ষেপ দাবি করেছে এলাকাবাসী।

ফেনী জেলাসহ পাশের জেলায় বেশ কিছু দিন ‘ছেলেধরা’ চক্রের গুজব ফেজবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এই আতঙ্কে ফেনীর সদর উপজেলার প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। দাগনভূঞা উপজেলায় এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সব চেয়ে বেশি।

ফেনী সদর উপজেলার বিজয় সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, ‘ছেলেধরা’ আতঙ্কে তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে উপস্থিতি বেশি কমেছে। যারা বিদ্যালয়ে আসছে, তাদের অভিভাবকরা এসে বসে থাকে। অনেকে মোবাইল ফোনে ছেলে-মেয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

এ গুজব রোধে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফেনীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, গুজব রটাচ্ছে সরকারবিরোধী লোকজন। তারা রটাচ্ছে, নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুতে ছেলেদের এক হাজার মাথা লাগবে। যার জন্য শিশুদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর নবী জানান, ছেলেধরা সন্দেহে সিন্দুরপুরে এক মানসিক রোগীকে স্থানীয়রা মারধর করেছে। পরে তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান।

ফেনী সদর উপজেলার গোহাডুয়া হাজী আলী আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, ছেলেধরা আতঙ্কে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশুদের উপস্থিতি কমেছে।

এখনো পর্যন্ত ছেলেধরা হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করতে বা ছেলেধরা কারো সন্তান চুরি করে নিয়ে গেছে- এমন প্রমাণ নেই। সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে পিটিয়ে আহত করছে জনতা। এদের কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছে।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ আহম্মদ পাঠান বলেন, ছেলেধরা গুজব কাটাতে জনসচেতনতা অপরিহার্য। এ নিয়ে মাইকিং ও জনসচেতনতা সভার আয়োজন জরুরি।

নিউটার্ন.কম/এআর

0 Shares