Home » জাতীয় » বন্ধ ক্যাম্পাসে ঈদের বাজার!

বন্ধ ক্যাম্পাসে ঈদের বাজার!

 

তানভীর ইসলাম,রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে (রাবি) এখন চলছে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ। জনশূন্য ক্যাম্পাস যেন জনশূন্য প্রায়। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরের সামনে দেখা গেলো বেশ জনসমাগম। সেখানে বসেছে ছোটখাটো এক ঈদের বাজার।

ক্যাম্পাস অনেক আগে ছুটি হলেও চলমান রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের হলগুলো খোলা থাকায় এখনও অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। এ সুযোগে ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও ছোট ব্যবসায়ী ও হকাররা ক্যাম্পাসে অস্থায়ী দোকান খুলে বসেছেন। প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীরাই মূলত তাদের ক্রেতা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানিই বাহারি রঙের সব কাপড় নিয়ে এসেছেন। ছোট-বড় সবার জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট, প্যান্ট, লুঙ্গি, শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে এখানে। পাঞ্জাবি,পায়জামা,ফতুয়া,আতর,টুপি ছাড়া জমে না কোন ঈদ। তাই এসব দোকানে ছিলো উপচে পড়া ভিড়।

বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্রাম্যমাণ হকাররা এসেছেন তাদের রকমারি পণ্য নিয়ে। ছুরি,কাঁচি,চিরুনি থেকে শুরু করে নিত্যদিনের সব পণ্যই পাওয়া যাচ্ছে তাদের কাছে। কেউবা আবার বিক্রি করছেন বাঁশ ও কাঠের তৈরী হাতপাখা,ঝুড়ি,কুলা। আখ,ডাবসহ মৌসুমী ফলও বিক্রি করছেন কেউ কেউ। রাজশাহীর পাশর্^বতী জেলা পাবনা,সিরাজগঞ্জ,বগুড়া থেকেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে।

রাজশাহী শহরের সোনাদীঘির মোড়ে ছোট দোকান রয়েছে জাফরের। সেখান থেকে পাঞ্জাবি-পায়জামা নিয়ে এই ‘ক্যাম্পাস বাজারে’ বসেছেন। তিনি বলেন, মূলত লভের জন্যই এখানে আসা। ঈদের সময় হলে আমার মত অনেকেই শহর থেকে এখানে জিনিস বিক্রি করতে আসে। কেনাবেচা ভালোই চলছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে নিজের তাঁতে বোনা লুঙ্গি বিক্রি করতে এসেছেন আবু সাঈদ। তিনি বলেন, এটা আমাদের মৌসুমী ব্যবসা। প্রত্যেক ঈদের মৌসুমেই আসি। বিক্রি-বাটা যতদিন চলবে ততদিন এখানে বসবো।

আবু সাঈদের দোকান থেকে লুুঙ্গি ক্রয় করছিলেন ঠিকাদার ইমরান আলী। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে দুইটা লুঙ্গি কিনলাম। এদের লুঙ্গির কাপড় ভালো আর দামও কম।

কেনাকাটা করতে আসা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী বোরহানউদ্দিন বলেন, আমি এখান থেকে পায়জামা,আতর,টুপি কিনেছি। এখানে জিনিসপত্র তুলনামূলক সস্তা। আর এই উদ্যোগটা বেশ ভালো। এতে করে কষ্ট করে আর বাজার যেতে হচ্ছে না। সব জিনিস এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এখান থেকেই ঈদের প্রস্তুতি সেরে বাসায় যেতে পারবো।

গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহে অতীষ্ঠ জনজীবন। কিন্তু তাতে তো আর বসে থাকলে চলবে না। তাই গ্রীষ্মের সূর্যের খররোদ্দুর মাথায় নিয়েই একটা-দুইটা করে দোকান খুলতে শুরু করেন দোকানিরা। আস্তে আস্তে জমে ওঠে বাজার। হরদম এই বিকিকিনি চলে সূর্যের ক্লান্ত হয়ে দিগন্তে হেলে পড়া পর্যন্ত।