Home » জাতীয় » রাবিতে পাঁচ বছর ধরে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা : প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রনেতাদের

রাবিতে পাঁচ বছর ধরে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা : প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রনেতাদের

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাঁচ বছর ধরে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসলেও তা তুলে নেয়নি প্রশাসন। সম্প্রতি রাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের সংলাপে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামনে আসে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রায় সব ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবি জানান। তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পাস থেকে সহসা উঠছে না রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সান্ধ্য কোর্স ও একাডেমিক বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। ওইদিন থেকে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। ২৮ দিন বন্ধ থাকার পর ক্যাম্পাস খোলা হয়। স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ওই বছরের ৩ মার্চ সিন্ডিকেট মিটিংয়ে ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল, সমাবেশ এবং রাজনৈতিক কর্মকা-ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রক্টর দফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংলাপে ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠন রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। ছাত্রনেতাদের দাবি, ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির পর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। তবে মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশ করছে ছাত্রলীগ। ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নামে প্রশাসন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা থেকে বিরত রাখছে। কিন্তু ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ মামুন বলেন, ‘রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা যদি জারি থাকে তবে তা সব রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের জন্য প্রযোজ্য থাকা উচিত। ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করছে অথচ প্রশাসন নীরব। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে।’ তিনি দ্রুত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানান।
সম্প্রতি রাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘কেমন বিশ্ববিদ্যালয় চাই’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে ‘রাকসু আন্দোলন মঞ্চ’। সেখানে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে রাজনৈতিক কর্মকা-ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসন আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকবে। যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের নিজেদের মতো কাজ করবে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কখনো কাম্য নয়। দুঃখজনক হলেও সত্য প্রশাসন রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সবার ক্ষেত্রে এটি মানা হয় না। আমরা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’
এদিকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়মিত সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীদের। বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আহ্বায়ক রঞ্জু হাসান বলেন, ‘রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আমরা অনিয়ম, অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। বিভিন্ন সময় কিছু অদৃশ্য শক্তি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অজুহাত দেখিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা। এখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে মতামত দেবেন। কিন্তু রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এক্ষেত্রে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। আমরা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে আমরা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে দ্রুত রাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে এ আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন এখনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলবো। যদি তাতেও কাজ না হয় তবে প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাবো।’
এ বিষয়ে প্রক্টর ও রাকসু সংলাপ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সংলাপে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে দাবি উঠেছে প্রশাসন সে ব্যাপারে ইতিবাচক। তবে যেহেতু নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদিত তাই চাইলেই তা তুলে নেওয়া সম্ভব নয়। সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শেষে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে রাকসু নির্বাচনের আগেই এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।’