Home » জাতীয় » ’৬ দফা ছাড়া স্বাধীনতার পথ রচনা ছিল অসম্ভব’

’৬ দফা ছাড়া স্বাধীনতার পথ রচনা ছিল অসম্ভব’

নিউটার্ন রিপোর্ট

৬ দফা যে বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ তা বুঝতে এ দেশের মানুষ ভুল করেনি। তাই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৬ দফাই হয়ে ওঠে বাঙালির স্বাধীনতার মুল সোপান। ৬ দফা ছাড়া স্বাধীনতার পথ রচনা ছিল অসম্ভব।
বৃহষ্পতিবার (১৩.০৬.১৯)সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
জাগো বাংলা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সকালে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও আমাদের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনারে এ বক্তব্য তুলে ধরেন বক্তারা।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কবি সাংবাদিক নাসির আহমেদের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচায প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদের মুল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের খান, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নিল এবং বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বলেন, ৬ দফা শুধু একটি ঘোষণা মাত্র নয়, এটি একটি দর্শন। ৬ দফায় রয়েছে অর্থনীতি, রাজনীতি, শোষিত-নিপীড়িত মানুষের কথা।
যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ৬ দফা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। মুক্ত চিন্তা গড়ার , সাবাধীন ভাবে চিন্তা করার ১ টি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বেড়ে ওঠার প্রাথমিক ধারনাটা ৬ দফার মধ্যে নিহিত ছিল। যে কারনে সে সময় যারা মুক্ত চিন্তার বাইরে তারা বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল। এখনো কিছু কিছু মানুষ ৬ দফার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা তখনও ছিল এখনও আছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত ছিলেন যে পাকিস্তান কাঠামোর মধ্য থেকে বাঙালির অধিকার আদায় সম্ভব হবে না। বাঙালির অধিকার আদায়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, বাঙালিরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সেই পটভূমিতেই তিনি ৬ দফা কর্মসূচী দিয়েছিলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ৬ দফার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে উজ্জীবিত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। এ যাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের খান বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অভিন্ন সত্ত্বা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নিল বলেন, ৬ দফা বাঙালি জাতির জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হলে ৬ দফাসহ বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রতিটি ইতিহাস তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের নানাদিক তুলে ধরে সভাপতির বক্তব্যে নাসির আহমেদ বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে। ভিন্নমত মানে এই নয় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করবে না, ভিন্নমত মানে এই নয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করবে না, ভিন্নমত মানে এই নয় নারীর ক্ষমতায়ন সমর্থন করবে না, ভিন্নমত মানে এই নয় যে সাম্প্রদায়িকতাকে্ উস্কে দেবে। বিরোধী দল থাকবে কিন্তু তাদেরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী হতে হবে।